উইকিশৈশব:এটা কীভাবে কাজ করে/কপিকল

জার্মানির একটি খালের উপর ১৯ শতকের একটি ক্রেন।

কপিকল হল মূলত একটি চাকা যার কিনারা বরাবর একটি খাঁজ রয়েছে, যেখানে একটি দড়ি বা তার পেঁচিয়ে লাগানো থাকে। সাধারণত, দুই বা ততোধিক কপিকল একসাথে ব্যবহার করা হয়। যখন কপিকলগুলি একসাথে এইভাবে ব্যবহার করা হয়, কম পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে কোন ওজন তোলা যায়। একটি ক্রেন কপিকল ব্যবহার করে ভারী বোঝা তোলা সহজ হয়। ছয়টি সরল যন্ত্রের মধ্যে কপিকল একটি।

কপিকল কে আবিস্কার করেন?সম্পাদনা

কপিকলের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল জানা যায় নি, কিন্তু প্রমাণ আছে যে ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জের ভবনে কপিকল ব্যবহার করা হয়েছিল। কপিকলের প্রথম ব্যবহারকারী হিসেবে যে নামগুলি আমরা পাই, তার মধ্যে প্রথম নামটি হল আর্কিমিডিসের। তিনি সিরাকিউসে (একটি গ্রীক সমুদ্রবন্দর উপনিবেশ) জন্মগ্রহণকারী একজন বিখ্যাত গ্রিক বিজ্ঞানী ছিলেন। আর্কিমিডিস বিজ্ঞানের অনেক ক্ষেত্র অধ্যয়ন করেছিলেন এবং অনেকগুলি যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন, এবং বলা হয় যে তিনি একটি জাহাজকে সমুদ্র থেকে টেনে স্থলে নিয়ে যেতে কপিকল ব্যবহার করেছিলেন। আর্কিমিডিস সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হননি কিন্তু তিনি নিজের সমগ্র জীবন গবেষণা ও পরীক্ষায় নিবেদিত করেছিলেন। তিনি আধুনিক মিশরে অবস্থিত সেই সময়ের একটি প্রধান বিশ্ব শহর আলেকজান্দ্রিয়ার ইউক্লিড স্কুলে শিক্ষা লাভ করেন। তার পরীক্ষাগুলি আজও আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে।

এটি কিভাবে ক্ষমতা পায়?সম্পাদনা

 
একটি যৌগিক পুলি।

এটি দূরত্বের সাথে বিনিময় প্রক্রিয়ায় তার শক্তি পায়। একটি দ্বি-কপিকল পদ্ধতির সাহায্যে, তুমি কিছু তুলতে অর্ধেক শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু একটি বস্তুকে এক মিটার তুলতে তোমাকে দড়িটি দুই মিটার টানতে হবে।

এটি কাজ করে কেন? এটা আসলে 'কার্য বা কাজ' নামক একটি ধারণার কারণে হয়। তুমি জানো যে তুমি যদি ২ মাইল (৩ কিমি) হেঁটে স্কুলে যাও, তোমার স্কুলে ১ মাইল হেঁটে যাওয়াটা তার চেয়ে সহজ। প্রতিটি পদক্ষেপ যেতে কতটা পরিশ্রম হয়? তোমার শরীরকে নাড়াচাড়া করার জন্য প্রচেষ্টা অনেকটা বেশি করতে হয়। বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীরা বলেন যে তুমি কিছু দূরত্ব যেতে যতটা পরিশ্রম করো, সেটাই তোমার 'কার্য'। একটি মোটামুটি বাস্তব সমীকরণ হল   (যদিও এটা পুরোপুরি ঠিক নয়)। সুতরাং, যদি তুমি একটি দ্বি-কপিকল পদ্ধতিতে ১ পাউন্ড-বল দিয়ে ২ ফুট (৬০ সেমি) দড়ি টানো, তাহলে তুমি ২ ফুট পাউন্ড কাজ করেছো, এটি আবার ২ পাউন্ড বল দিয়ে একটি ১ ফুট দড়ি টানার সমান কাজ। তাপগতিবিদ্যার ১ম সূত্রের একটি ফলাফল হল একই প্রক্রিয়া করতে (যেমন একটি বাক্স ১ ফুট ওঠানো) একই পরিমাণ কাজ লাগে, সে যাই হোক না কেন। তাই তুমি যতক্ষণ একই পরিমাণ কাজ করো, তুমি যে কোনো শক্তি ব্যবহার করতে পারো।

এটি কিভাবে কাজ করে?সম্পাদনা

একটি কপিকল হল একটি চাকা এবং তার চারপাশের খাঁজে আবৃত একটি দড়ি বা তার। এটি শক্তির দিক পরিবর্তন করে। একটি প্রাথমিক যৌগিক পুলিতে একটি দড়ি বা তার থাকে যেটির এক প্রান্ত একটি স্থির বিন্দুর সাথে সংযুক্ত থাকে এবং দড়ির বাকি অংশ প্রথম একটি চাকার খাঁজের চারপাশে এবং তারপরে দ্বিতীয় একটি চাকার খাঁজের চারপাশে প্যাঁচানো থাকে। দড়িতে টান দিলে চাকাদুটি আরও কাছাকাছি চলে আসে।

 
একটি পালতোলা জাহাজে নেহাই এবং দড়ি (ব্লক অ্যাণ্ড ট্যাকল)। পালগুলিকে বিন্যস্ত করতে এবং শক্ত করে বাঁধতে জাহাজে কপিকল ব্যবহার করা হয়।

এটি কতটা বিপজ্জনক?সম্পাদনা

সেটি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। কাজেই দড়ি টানার সময় যাতে কপিকলে আঙ্গুল ঢুকে না যায়, ঢিলেঢালা পোশাক এবং চুল যাতে এতে আটকে না যায় সেজন্য সাবধান হওয়া উচিত। এছাড়াও যেহেতু কপিকলগুলি প্রায়শই ভারী জিনিস তুলতে ব্যবহৃত হয় তাই সাবধান হওয়া উচিত। যদি দড়ি, তার বা একটি কপিকল যেখানে আটকানো আছে সেটি ভেঙে পড়ে, এবং তুমি যদি এই ভারের নিচে পড়ে যাও তাহলে গুরুতর আঘাত হতে পারে। উত্তোলন সরঞ্জামটির ওজনের নথিভুক্ত মাপকাঠি যাতে অতিক্রম না করে যায়, সে বিষয়ে কর্মচারীকে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এটির কাজ কি?সম্পাদনা

দুটি জিনিসকে কাছাকাছি টেনে আনতে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি ভারী বস্তু তুলতে ব্যবহার করা যেতে পারে (ভারী বস্তুটিকে ওপরের কোন কিছুর কাছাকাছি টেনে আনা)। এটি কখনও কখনও ফাঁদ হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তিটি কপিকলের দড়িতে একটি জাল লাগিয়ে দেবে এবং তারপরে সে যা ধরতে চায় তা ধরা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।

এটি কিভাবে পরিবর্তিত হয়?সম্পাদনা

 
উঁচু ভবন নির্মাণের জন্য বাড়ি তৈরির উপকরণগুলিকে বাতাসে উঁচুতে তুলতে একটি ক্রেনের উপর কপিকল ব্যবহৃত হয়।

তুমি গোটা বিন্যাসে কোন কপিকল যোগ করতে পারো বা তার থেকে কোন কপিকলকে বাদ দিতে পারো। বেশি কপিকল লাগালে টানা আরও সহজ হয় (অথবা তুমি বেশি ভারী বোঝা টেনে তুলতে পারো), তবে একই পরিমাণে ওজন তোলার জন্য তোমাকে আরও বেশি দড়ি টানতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের কপিকলের বিন্যাস থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ পালতোলা নৌকায় ৩ বা ৪টি ভিন্ন কপিকলের বিন্যাস (বুমভাং, কানিংহাম, আউটহাল, মেইনশীট) থাকতে পারে, প্রত্যেকটি আলাদা কাজ করে।

কিভাবে এটি বিশ্বের পরিবর্তন করেছে?সম্পাদনা

যে কোন মানুষ শুধুমাত্র তার শরীরের ক্ষমতা ব্যবহার করে যতটা ওজন তুলতে পারবে কপিকল ব্যবহার করে তার চেয়ে ভারী বস্তু টেনে তোলা যাবে। এর সাহায্য নিয়ে প্রাচীন দেশগুলিতে বড় পালতোলা জাহাজ তৈরি হয়েছে এবং নাবিকেরা বিশ্ব পরিভ্রমণ করতে পেরেছে। কারণ মানুষ কপিকল ছাড়া সঠিক জায়গায় জাহাজের পাল টানতে সক্ষম হত না। কপিকল দিয়ে বড় বড় পাথর গুলিকে ওপরের দিকে টানতে পারা যায় এবং তাই মানুষ এর সাহায্যে উঁচু ভবন তৈরি করতে পেরেছে।

এটি তৈরি করার আগে কী ধারণা এবং/অথবা উদ্ভাবনগুলি বিকাশ করতে হয়েছিল?সম্পাদনা

দড়ি এবং চাকার উদ্ভাবন করতে হয়েছিল, কারণ আর্কিমিডিসের যৌগিক কপিকল তৈরি করার জন্য এই দুটিরই প্রয়োজন ছিল। তিনি প্রকৃত কপিকলের জন্য চাকার ব্যবহার করেছিলেন এবং ভারী জিনিস তুলতে দড়ির সাহায্য নিয়েছিলেন। পরে, চাকাতে একটি খাঁজ তৈরি করে তার মধ্যে মানানসই করে দড়ি লাগানো হয়েছিল। আর্কিমিডিস যখন যৌগিক কপিকল পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, তখন শুধুমাত্র কাঠের চাকা ব্যবহার করা হত। এখন, ধাতব চাকা ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলি আরও কার্যকর এবং তাদের নিয়ে কাজ করা সহজ।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

Wikipedia:Pulley