উইকিশৈশব:রাসায়নিক মৌল/ম্যাগনেসিয়াম

পর্যায়ক্রমিক চার্টে ম্যাগনেসিয়ামের অবস্থান
পর্যায় সারণিতে ম্যাগনে-সিয়ামের প্রতীক

ধাতুটি দেখতে, স্পর্শে, স্বাদে, অথবা গন্ধে কেমন লাগে?সম্পাদনা

 
ম্যাগনেসিয়ামের একটি ছোট টুকরো।
 
ম্যাগনেসিয়াম স্ফটিক আকারে।

ধাতব হিসাবে ম্যাগনেসিয়াম রূপালী-সাদা এবং হালকা ওজনের। এটি এখানে একটি দণ্ডের আকারে দেখানো হয়েছে তবে এটি গুঁড়ো আকারেও পাওয়া যায়। আশ্চর্যজনকভাবে, এটি যেকোনো সাধারণ ব্যক্তি চিকিৎসার প্রয়োজনে কিনতে পারেন।

ধাতুটি কিভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল?সম্পাদনা

১৭৫৫ সালে জোসেফ ব্ল্যাক নামে একজন ফরাসি-স্কটিশ চিকিৎসক এবং রসায়নবিদ ইংল্যান্ডে ম্যাগনেসিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন। ১৮০৮ সালে স্যার হামফ্রি ডেভি তড়িৎ-বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাহায্যে বিশুদ্ধ ম্যাগনেসিয়াম ধাতুকে আলাদা করেছিলেন।

ধাতুটির নাম কোথা থেকে এসেছে?সম্পাদনা

ম্যাগনেসিয়াম নামটি গ্রীক শব্দ ম্যাগনেসিয়া থেকে এসেছে। থেসালির গ্রীক অঞ্চলের একটি জেলার নাম থেকে এই শব্দের উৎপত্তি।

তুমি কি জান?

  • ভূত্বকে প্রাচুর্যের বিচারে ম্যাগনেসিয়াম অষ্টম স্থানে রয়েছে।
  • সমুদ্রের জলে প্রতি ঘন কিলোমিটারে ১.৩ কিলোগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।
  • সামুদ্রিক শিখা এবং আতশবাজিতে উজ্জ্বল সাদা আলো তৈরি করতে ম্যাগনেসিয়াম ব্যবহৃত হয়।

ধাতুটি কোথায় পাওয়া যায়?সম্পাদনা

প্রকৃতিতে ম্যাগনেসিয়াম ধাতু বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন যৌগের আয়ন হিসাবে ম্যাগনেসিয়ামকে খুব সহজেই পাওয়া যায়।

ভূত্বকে এবং সমুদ্রের জলে ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতি খুব সাধারণ ব্যপার।

সবুজ শাকসবজিতে, বিশেষ করে গাঢ় সবুজ রঙের শাকসবজিতে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। তার কারণ উদ্ভিদের সবুজ পাতার ক্লোরোফিল হচ্ছে একধরনের সবুজ রঞ্জক পদার্থ দিয়ে তৈরি যাতে ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

ধাতুটির ব্যবহার কোথায়?সম্পাদনা

সমস্ত জীবিত কোষের জন্য ম্যাগনেসিয়ামের প্রয়োজন। এটি আমাদের শরীরে ডিএনএ-র মতো অণু তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভিদও সালোকসংশ্লেষণের জন্য ক্লোরোফিলের মধ্যে থাকা হিসেবে ম্যাগনেসিয়াম ব্যবহার করে।

ম্যাগনেসিয়াম খুব উজ্জ্বল সাদা রঙের শিখায় জ্বলতে পারে। আগেকার দিনে আলোর উৎস হিসাবে এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ তৈরি করতে ম্যাগনেসিয়াম ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে কিছু কিছু আতশবাজিতে ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার দেখা যায়। আগুনের বোমা তৈরিতেও এটি ব্যবহৃত হয়।

যেহেতু ম্যাগনেসিয়াম অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ হালকা, তাই এটি অন্যান্য ধাতুর সাথে মিশিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। অনেক অটোপ্রস্তুতকারক তাদের যানবাহনে ম্যাগনেসিয়াম সংকর ব্যবহার করেন। কিছু গাড়ির ব্যাটারিতে ম্যাগনেসিয়াম ব্যবহার করা হয়।

ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO)-কে ম্যাগনেসিয়াও বলা হয়। এটি পাকস্থলীর অম্ল নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসায় অ্যান্টাসিড হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এপসম লবণ তৈরি করতেও ম্যাগনেসিয়াম ব্যবহৃত হয়, যা ত্বকের ছোটখাটো ঘর্ষণজনিত নিরাময় করতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

নির্মাণ শিল্পেও ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার রয়েছে। নির্মাণ শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী হালকা ধাতুগুলির মধ্যে এটি একটি।

এটা কি বিপজ্জনক?সম্পাদনা

ম্যাগনেসিয়াম অত্যন্ত দাহ্য। এটি জ্বলার সময় যে উজ্জ্বল আলো দেয় সেটি চোখের ক্ষতি করতে পারে। এটিকে কখনই আগুনে রাখা উচিত নয়, কারণ এটি পোড়ার সময় অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা উৎপন্ন করে। এটিকে কখনই অ্যাসিডে দেওয়া উচিত নয়। কারণ অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়ায় জ্বলনশীল হাইড্রোজেন গ্যাস বের হয়। এটিকে শিশুদের থেকে দূরে রাখা উচিত।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা