উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/শনি/অ্যাপেটাস

ক্যাসিনি থেকে অ্যাপেটাসের ছবি

অ্যাপেটাস শনি গ্রহের একটি চাঁদ।

অ্যাপেটাস কত বড়?সম্পাদনা

অ্যাপেটাস শনির তৃতীয় বৃহত্তম চাঁদ, এবং প্রায় ১৪৩৬ কিমি চওড়া।

এর উপরিতল কেমন?সম্পাদনা

 
অ্যাপেটাসের দুটি গোলার্ধ, ভিন্ন রঙের বৈশিষ্ট্যযুক্ত।

মহাকাশ থেকে, অ্যাপেটাসের দ্বি-স্তরীয় রঙ বেশ স্পষ্ট বোঝা যায়। একটি গোলার্ধের রঙ হল গাঢ় লালচে বাদামী, অন্য গোলার্ধটি উজ্জ্বল রঙের এবং প্রচুর গহ্বর যুক্ত। দেখে মনে অনেকটা য়িন এবং য়াং ("অন্ধকার-ঊজ্বল" বা "ঋণাত্মক-ধনাত্মক") প্রতীকের মত।

বিজ্ঞানীরা জানেন না যে অন্ধকার গোলার্ধের গাঢ় রঙের উপাদানগুলি কোথা থেকে এসেছে, কিন্তু তাঁরা মনে করেন যে এটি মহাকাশ থেকে বা অ্যাপেটাসের ভিতর থেকে আসতে পারে। যদি এটি মহাকাশ থেকে আসে, তবে এটি উল্কা বা ধূমকেতুর পৃষ্ঠ থেকে এসেছে, অথবা এটি হয়তো শনির আরেকটি চাঁদ, ফোবে থেকে ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। যদি উপাদানটি অ্যাপেটাসের ভিতর থেকে আসে, তবে সেটি হৈম আগ্নেয়গিরি (যে আগ্নেয়গিরি থেকে গলিত লাভার পরিবর্তে জল, অ্যামোনিয়া বা মিথেন নির্গত হয়) বা বরফ জলের বাষ্পীভবন থেকে এসেছে।

 
অ্যাপেটাসের নিরক্ষীয় শৈলশিরা।

২০০৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর যখন ক্যাসিনি অ্যাপেটাসের পাশ দিয়ে উড়ে গিয়েছিল, তখন অ্যাপেটাসে একটি শৈলশিরা দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। সেটি ১৩০০ কিমি লম্বা, ২০ কিমি চওড়া এবং ১৩ কিমি উঁচু। এটি অ্যাপেটাসের নিরক্ষরেখাকে প্রায় নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে চলেছে, এবং এটি ব্যাপকভাবে গহ্বরযুক্ত। সেইজন্য মনে করা হয় এটি হয়তো প্রাচীন অঞ্চল।

আপাতত, বিজ্ঞানীরা শৈলশিরার উৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। একটি তত্ত্ব হল যে শৈলশিরাটি বরফ জলের উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছিল এবং সেটি অ্যাপেটাসের অন্তস্থল থেকে উঠে এসে জমাট বেঁধে গেছে। অন্য তত্ত্বটি হল যে অ্যাপেটাস কোন সময়ে শনির বলয়ের বাইরের প্রান্তে ঘষে গিয়েছিল।

অ্যাপেটাসে একটি দিন কত বড়?সম্পাদনা

অ্যাপেটাসে একদিন পৃথিবীর ৭৯.৩২ দিনের সমান, হিসেবমত সেটি হয় প্রায় ৭৯ দিন, ৭ ঘন্টা এবং ৪১ মিনিট। শনির চারপাশে কক্ষপথে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে অ্যাপেটাসের একই পরিমাণ সময় লাগে। এর মানে এই হল যে এই অ্যাপেটাসের একটিই দিক সবসময় শনির মুখোমুখি থাকে।

এটি কিসের তৈরি?সম্পাদনা

অ্যাপেটাসের বেশিরভাগ অংশ বরফ দিয়ে তৈরি, এছাড়া এর মধ্যে অল্প পরিমাণ শিলা পাথর রয়েছে।

অ্যাপেটাসের মাধ্যাকর্ষণ আমাকে কতটা টানবে?সম্পাদনা

তুমি যদি অ্যাপেটাসের ভূপৃষ্ঠে দাঁড়িয়ে থাক, তাহলে পৃথিবীতে তোমার যা ওজন হয়, এখানে তার প্রায় ১/৪০ ভাগ ওজন হবে, অর্থাৎ পৃথিবীর মাটিতে কোন মানুষের ৪০ কেজি ওজন হলে এখানে তার ওজন হবে ১ কেজি।

কার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে?সম্পাদনা

অ্যাপেটাস, টেথিস, ডিওন এবং রিয়া আবিষ্কৃত হওয়ার পর, রাজা চতুর্দশ লুইকে সম্মান জানাতে এদের নাম সাইডেরা লডোসিয়া ("লুই এর তারা") দেওয়া হয়েছিল। জ্যোতির্বিদরা তাদের এবং টাইটানকে শনি ১ থেকে শনি ৫ বলে ডাকতেন। ১৭৮৯ সালে মিমাস এবং এনসেলাডাস আবিষ্কৃত হওয়ার পর, সংখ্যায়ন পদ্ধতিটি শনি ৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

অ্যাপেটাস নামটি জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্শেলের ছেলে জন হার্শেল প্রস্তাব করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে, তিনি রেজাল্টস অফ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেশনস মেড অ্যাট দ্য কেপ অফ গুড হোপ (উত্তমাশা অন্তরীপে তৈরি জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের ফলাফল) প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই টাইটানগুলির নামকরণে ক্রোনোস (গ্রিক শনি) এর ভাই এবং বোনেদের নাম ব্যবহার করতে।

অ্যাপেটাস গ্রিক পুরাণের একজন টাইটান। সে ছিল ইউরেনাস এবং গাইয়ার পুত্র এবং অ্যাটলাস, প্রমিথিউস, এপিমেথিউস ও মেনোয়েটিয়াসের বাবা, তার স্ত্রী ছিল ক্লাইমিন বা এশিয়া নামক ওশেনিড। প্রমিথিউস, এপিমেথিউস এবং এটলাসের মধ্য দিয়ে অ্যাপেটাস মানব জাতির পূর্বপুরুষ।

এটি কিভাবে আবিষ্কার করা হয়েছিল?সম্পাদনা

১৬৭১ সালের ২৫শে অক্টোবর, জিওভান্নি ক্যাসিনি অ্যাপেটাস আবিষ্কার করেছিলেন।