উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/শনি/এনসেলাডাস

ক্যাসিনি থেকে এনসেলাডাস।

এনসেলাডাস হল শনি গ্রহের চাঁদ।

এনসেলাডাস কত বড়?সম্পাদনা

দৈর্ঘ্য প্রস্থ বরাবর এনসেলাডাস ৪৯৮.৮২ কিমি জুড়ে বিস্তৃত।

এর উপরিতল কেমন?সম্পাদনা

 
বিস্ফোরণের শিখা

এনসেলাডাসের উপরিতলে প্রচুর বৈচিত্র্য রয়েছে। ভয়েজার ২ দ্বারা তোলা ছবিগুলিতে এখানকার অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ভূখণ্ড প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে আছে গহ্বরযুক্ত বিভিন্ন ভূখণ্ড অঞ্চল, মসৃণ, নবীন ভূখণ্ড, শৈলশিরার সারি দিয়ে গঠিত ভূখণ্ড, এই শৈলশিরাগুলি অধিকাংশ স্থলেই মসৃণ ভূখণ্ডের সীমানা নির্ধারণ করেছে। ছবিটিতে কিছু ফাটলও দেখা গেছে যেগুলি গহ্বরযুক্ত ভূখণ্ড এবং মসৃণ ভূখণ্ডের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে।

মসৃণ সমভূমিতে খুব কম গহ্বর রয়েছে, তার থেকে বোঝা যায় যে সেই অঞ্চলগুলি তুলনামূলকভাবে পরে তৈরি হয়েছে। এর অর্থ এই যে, এনসেলাডাসের পৃষ্ঠতলে হৈম-আগ্নেয়গিরি (যে আগ্নেয়গিরি থেকে গলিত লাভার পরিবর্তে জল, অ্যামোনিয়া বা মিথেনের মত পদার্থ নির্গত হয়) অথবা অন্য কিছু আছে, যার ফলে এই পৃষ্ঠতল নতুন করে গঠিত হয়েছে।

২০০৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি এবং তারপর ৯ই মার্চ যখন ক্যাসিনি মহাকাশযান এনসেলাডাসের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়েছিল, তখন এর পৃষ্ঠতল সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জানা গিয়েছিল। এইবারে ভয়েজার ২ থেকে যে মসৃণ অঞ্চলগুলি দেখা গিয়েছিল সেখানে অনেক ছোট শৈলশিরা এবং খাড়াই ঢাল দেখতে পাওয়া গিয়েছিল, যদিও অপেক্ষাকৃত পুরোন গহ্বরযুক্ত অঞ্চলে অনেকগুলি ফাটল দেখা গিয়েছিল।

এনসেলাডাসে দিন কত বড়?সম্পাদনা

এনসেলাডাসের নিজের অক্ষকে কেন্দ্র করে একবার ঘুরতে যত সময় লাগে তা হল এর একদিন। এটি পৃথিবীর ১.৩৭ দিনের সমান, অর্থাৎ এক দিন, ৮ ঘন্টা, ৫৩ মিনিটের সমান। আবার যখন এটি কক্ষপথে শনির চারপাশে একবার প্রদক্ষিণ করে আসে তখনও এর একই সময় লাগে। এর ফলে এনসেলাডাসের একই দিক সর্বদা শনির দিকে মুখ করে থাকে। যখন কক্ষপথে আবর্তন এবং নিজের অক্ষের ওপর ঘূর্ণন সময় এইভাবে একই হয়ে যায়, তখন এটিকে সমলয় ঘূর্ণন বলা হয়: এর আরেকটি উদাহরণ হল পৃথিবীর চাঁদ।

এনসেলাডাসের মাধ্যাকর্ষণ আমাকে কীভাবে টানবে?সম্পাদনা

যদি তুমি এনসেলাডাসের ভূপৃষ্ঠে দাঁড়াও, তাহলে পৃথিবীতে তোমার যা ওজন এখানে তার মাত্র ১/১০ ভাগ ওজন হবে, অর্থাৎ পৃথিবীতে ১০০ কেজি ওজন হলে এখানে হবে ১ কেজি। এর কারণ হল, যদিও উভয় স্থানে তোমার ভর একই আছে, কিন্তু এনসেলাডাসের ভর পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম।

কার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে?সম্পাদনা

গ্রীক পুরাণের জিগান্টাসের নামানুসারে এনসেলাডাসের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি জিউসের একটি বজ্রাঘাতের কাছে পরাজিত হন এবং এটনা পর্বতের নিচে তাঁকে স্থাপন করা হয়। বলা হয় যে পাহাড় থেকে যে আগুন নির্গত হয় সেটি আসলে তার নিশ্বাস এবং পাহাড়ের মধ্যে যে গুড়গুড় শব্দ পাওয়া যায় তা হল তার ঘুরে বেড়ানোর আওয়াজ।

এই নামটি এবং সেইসাথে শনির অন্যান্য চাঁদগুলির নাম, প্রস্তাব করেছিলেন উইলিয়াম হার্শেলের ছেলে জন হার্শেল। ১৮৪৭ সালের প্রকাশিত তার রেজাল্টস অফ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেশনস মেড অ্যাট দ্য কেপ অফ গুড হোপ (উত্তমাশা অন্তরীপে তৈরি জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের ফলাফল) গ্রন্থে তিনি এগুলি লিখেছিলেন।

এটি কিভাবে আবিষ্কার করা হয়েছিল?সম্পাদনা

ইংরেজ জ্যোতির্বিদ উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮৯ সালে এনসেলাডাস আবিষ্কার করেছিলেন।