উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/শনি/টেথিস

ক্যাসিনি থেকে টেথিসের ছবি

টেথিস হল শনি গ্রহের চাঁদ।

টেথিস কত বড়?সম্পাদনা

টেথিস প্রায় ১০৬০ কিমি প্রশস্ত।

এর উপরিতল কেমন?সম্পাদনা

 
টেথিসে অস্বাভাবিক কিছু লাল আঁকাবাঁকা দাগ।

টেথিসের পৃষ্ঠতলে অনেকগুলি গহ্বর রয়েছে, পাশাপাশি এর বরফযুক্ত পৃষ্ঠের ফাটলের কারণে ভূ-চ্যুতিও (এক প্রকার মসৃণ ফাটল) রয়েছে।

এখানকার ভূ -পৃষ্ঠে দুই ধরনের ভূখণ্ড দেখা গেছে। একটি অঞ্চল প্রচুর গহ্বরপূর্ণ, এবং অন্যটি একটি গাঢ় রঙের, অল্প গহ্বরযুক্ত বলয় দিয়ে তৈরি। পরের অঞ্চলটি এর পৃষ্ঠতল জুড়ে বিস্তৃত। এই অঞ্চলের অল্প গহ্বর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে টেথিস একসময় অভ্যন্তরীণভাবে সক্রিয় ছিল, যার ফলে পুরোনো ভূখণ্ড ওপরে উঠে এসেছে। এই ভূখণ্ডের গাঢ় রঙের কারণ অজানা, কিন্তু গ্যালিলিও মহাকাশ যান থেকে গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টোর সাম্প্রতিক ছবিগুলি থেকে মনে হয়েছে যে টেথিসের পৃষ্ঠতল হয়তো এই দুটি চাঁদের মত একইভাবে গঠিত হয়েছিল। সবক্ষেত্রেই মেরু অঞ্চলে উজ্জ্বল বরফের টুকরো টুকরো ঝাপসা হিমছত্র (বরফ দিয়ে আবৃত মেরু অঞ্চল) রয়েছে, যার মধ্যে মধ্যে আছে অন্ধকার অঞ্চল।

টেথিসের সবচেয়ে বড় গহ্বরের নাম ওডিসিয়াস। এটি ৪০০ কিলোমিটারের বেশি প্রশস্ত, অর্থাৎ টেথিসের পৃষ্ঠের প্রায় ২/৫ অংশ! টেথিসের বরফের ভূত্বকের পাতের নড়াচড়ার কারণে গহ্বরটি বেশ সমতল।

টেথিসের পৃষ্ঠতলের আরেকটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল ইথাকা চাজমা (একটি উপত্যকা)। এটি ১০০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার গভীর। এটি ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, টেথিসের পরিধির প্রায় ৩/৪ অংশ ঘিরে রয়েছে। এটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল সে সম্পর্কে দুটি তত্ত্ব রয়েছে। প্রথম তত্ত্বটি হল যে টেথিসের অভ্যন্তরীণ জল জমতে শুরু হওয়ার সাথে সাথে, সেটি প্রসারিত হয়েছিল এবং তার পৃষ্ঠতলটি অতিরিক্ত আয়তন এর সাথে সামঞ্জস্য করার জন্য ফেটে গিয়েছিল। অন্য তত্ত্বটি হল, যে অভিঘাতের ফলে ওডিসিয়াস গহ্বর তৈরি হয়েছিল সেই অভিঘাতেই শকওয়েভ বা ঘাত তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল, যে তরঙ্গ টেথিসের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়েছিল এবং অন্যদিকের বরফে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছিল।

টেথিসের একটি দিন কত বড়?সম্পাদনা

টেথিসের একটি দিন পৃথিবীর ১.৮৯ দিনের সমান, অর্থাৎ ১ দিন এবং ২১ ঘন্টার কিছুটা বেশি। শনির চারপাশে একটি কক্ষপথে পরিভ্রমন করতে টেথিসের একই পরিমাণ সময় লাগে। এর অর্থ হল টেথিসের একই দিক সর্বদা শনির দিকে মুখ করে থাকে।

এটি কি দিয়ে তৈরি?সম্পাদনা

টেথিস প্রায় সম্পূর্ণরূপে জল-বরফ দিয়ে তৈরি।

কার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে?সম্পাদনা

 
টাইটান টেথিস।

টেথিস, ডিওন, রিয়া এবং অ্যাপেটাস আবিষ্কৃত হওয়ার পর, রাজা চতুর্দশ লুইকে সম্মান জানাতে এদের নাম সাইডেরা লডোসিয়া ("লুই এর তারা") দেওয়া হয়েছিল। জ্যোতির্বিদরা তাদের এবং টাইটানকে শনি ১ থেকে শনি ৫ বলে ডাকতেন (টেথিস ছিল শনি ৩)। ১৭৮৯ সালে মিমাস এবং এনসেলাডাস আবিষ্কৃত হওয়ার পর, সংখ্যায়ন পদ্ধতিটি শনি ৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

টেথিস নামটি জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্শেলের ছেলে জন হার্শেল প্রস্তাব করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে, তিনি রেজাল্টস অফ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেশনস মেড অ্যাট দ্য কেপ অফ গুড হোপ (উত্তমাশা অন্তরীপে তৈরি জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের ফলাফল) প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই টাইটানগুলির নামকরণে ক্রোনোস (গ্রিক শনি) এর ভাই এবং বোনেদের নাম ব্যবহার করতে।

গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, টেথিস টাইটানেস (মহিলা টাইটান) এবং সমুদ্রের দেবী ছিলেন, এর সাথে তিনি ওশেনাসের বোন এবং স্ত্রী উভয়ই ছিলেন। তিনি মহাবিশ্বের প্রধান নদীগুলির, যেমন নীল, আলফিউস, মায়ান্ডারের মা ছিলেন এবং এই সঙ্গে ওশেনিড বলে ডাকা প্রায় তিন হাজার কন্যারও মা ছিলেন।

এটি কিভাবে আবিষ্কার করা হয়েছিল?সম্পাদনা

১৬৮৪ সালের ১৬ই মার্চ, জিওভান্নি ক্যাসিনি টেথিস আবিষ্কার করেছিলেন।