উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/শনি/ডিওন

ক্যাসিনি থেকে ডিওনের ছবি

ডিওন হলো শনি গ্রহের একটি চাঁদ। ১৯৮০ সালে ভয়েজার ১ মহাকাশযান শনির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথম বিস্তারিতভাবে এটির কিছু ছবি তোলা হয়েছিল। ক্যাসিনি মহাকাশযান ২০০৪ সালে আরও কাছ থেকে ছবি তোলা শুরু করে এবং আমরা এখন শনির এই চাঁদ সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানি।

ডিওন কত বড়?সম্পাদনা

ডিওন ১,১১৮ কিমি জুড়ে বিস্তৃত। এটি আমাদের পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে অনেক ছোট, পৃথিবীর চাঁদ প্রায় ৩,৫০০ কিমি জুড়ে বিস্তৃত। ডিওন শনির চারপাশের কক্ষপথে আবর্তিত বৃহত্তম চাঁদ টাইটানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

এর উপরিতল কেমন?সম্পাদনা

 
পাশ দিয়ে উড়ে যাবার সময় ক্যাসিনি মহাকাশযান থেকে তোলা ডিওনের পৃষ্ঠতলের ছবি।

এখানকার বাতাবরণ শীতল এবং বরফযুক্ত। এর বায়ুমণ্ডলে পাতলা অক্সিজেনের স্তর রয়েছে। ডিওনের যে দিকটি তার কক্ষপথের দিকে মুখ করে রয়েছে, সেই দিকটি গ্রহাণুর সাথে অভিঘাতের ফলে তৈরি হওয়া গহ্বর দিয়ে আচ্ছাদিত। পিছনের দিকে পৃষ্ঠতল জুড়ে উজ্জ্বল, পালকের মত সূক্ষ্ম রেখা রয়েছে। এগুলি হল বরফের খাড়াই ঢাল, যেগুলি তৈরি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের স্থানান্তরণের ফলে।

ডিওনে একটি দিন কত বড়?সম্পাদনা

শনির চারপাশে কক্ষপথে প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করতে পৃথিবীর হিসেবে এর ২.৭৪ দিন সময় লাগে, যা ২ দিন এবং ১৮ ঘন্টার অল্প কিছু কম। এর নিজের অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরতেও সেই একই পরিমাণ সময় লাগে। এর অর্থ হল এই যে ডিওনের একই দিক সর্বদা শনির দিকে মুখ করে থাকে, একই রকম ভাবে আমাদের পৃথিবীর চাঁদেরও সবসময় একটাই দিক আমরা দেখতে পাই।

এটি কিসের তৈরি?সম্পাদনা

ডিওনের অভ্যন্তর অঞ্চল পাথুরে, তার ওপর দিয়ে একটি বরফের আবরণ রয়েছে। টাইটান ছাড়া শনির অন্য যে কোন চাঁদের চেয়ে ডিওনের অভ্যন্তরে পাথরের অংশ বেশি রয়েছে।

ডিওনের মাধ্যাকর্ষণ আমাকে কতটা টানবে?সম্পাদনা

ডিওনের ভূপৃষ্ঠে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ব্যক্তির ওজন পৃথিবীতে তার ওজনের ত্রিশ ভাগেরও কম হবে।

কার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে?সম্পাদনা

গ্রীক পুরাণের একজন টাইটানের নামে ডিওনের নামকরণ করা হয়েছে। এই ডিওন গ্রিক কবি হেসিওড দ্বারা বর্ণিত মূল বারো টাইটানদের সাথে একজন অতিরিক্ত সংযোজন ছিলেন।

এটি কিভাবে আবিষ্কার করা হয়েছিল?সম্পাদনা

১৬৮৪ সালে ইতালীয় জ্যোতির্বিদ জিওভান্নি ক্যাসিনি ডিওন আবিষ্কার করেছিলেন। সেই সময় তিনি ফ্রান্সের প্যারিস মানমন্দিরের পরিচালক ছিলেন।