হাঁস-মুরগি পালন/পুলেট বা বাড়ন্ত বাচ্চা পালন

ছয় সপ্তাহ বয়সের পর ডিম পাড়তে শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত মুরগির বাড়ন্ত স্ত্রী বাচ্চাকে পুলেট এবং বাড়ন্ত পুরুষ বাচ্চাকে ককরেল বলে।

পুলেট পালন পরিকল্পনা

সম্পাদনা

পুলেট পালন করার জন্য ৪ প্রকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই পরিকল্পনা বাচ্চা ব্রুডডিং হতে শুরু হয়।

অল-ইন-অল-আউট পরিকল্পনা

সম্পাদনা

এই পরিকল্পনার মধ্যে খামারে শুধু একই বয়সের বাচ্চা ব্রুডডিং থেকে শুরুকরে ডিম পাড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো বয়সের বাচ্চা, পুলেট অথবা লেয়ার রাখা হয় না। খামারে বাচ্চা ক্রডডিং ও পুলেট উৎপাদন করে বিক্রি করার জন্য অথবা ব্রয়লার পালন করারর জন্য এই পরিকল্পনা বেশি উপযোগী।

অল-ইন-অল-আউট পরিকল্পনায় খামারে একই সাথে বিভিন্ন বয়সের মুরগি না থাকার কারণে রোগ বিস্তারের সম্ভাবনা কমে যায়। প্রতি ব্যাচ বাচ্চার পালন শেষে পরবর্তী ব্যাচ বাচ্চা পালন করার পূর্বে ২ সপ্তাহ ঘর খালি রাখা হয়। ফলে রোগ জীবাণুর জীবন চক্রের ছেদ ঘটে এভং ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা যায়। এছাড়াও এ সময়ে ঘরের সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা যায়। এ সময় পরিচর্যাকারীকে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই, নতুন উদ্যোক্তার জন্য এই পদ্ধতি অনেক ভালো।

মাল্টিপল রিয়ারিং পরিকল্পনা

সম্পাদনা

এ পদ্ধতিতে খামারের একই সাথে বিভিন্ন শেডে বিভিন্ন বয়সের মুরগি থাকে। লেয়ার খামারে বিভিন্ন লেয়ার শেডে বিভিন্ন বয়সের লেয়ার মুরগি ও ব্রুডার-কাম-গ্রোয়ার হাউজে রিপ্লেসমেন্ট স্টক পালন করা হয়। এই পরিকল্পনার ফলে খামারে ডিম উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়।

বাজারে ডিম সরবারাহের ধারাবাহিকতা রাখার জন্য এই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন শেডের জন্য স্বতন্ত্র উপকরন ও পরিচর্যাকারী থাকে। এক শেড হতে অন্য শেডে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এ পদ্ধতিতে পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত ঘর তৈরি করা যায়।

আইসোলেশন রিয়ারিং পরিকল্পনা

সম্পাদনা

আইসোলেশন রিয়ারিং-এ স্বতন্ত্র ব্রুডার ধরে বাচ্চা ক্রডডিং এর পর অথবা ব্রুডডিং-কাম-গ্রোয়ার হাউজে পুলেট উৎপাদনের পর স্বতন্ত্রভাবে স্থাপিত লেয়ার খামারে স্থানান্তর করতে হয়। এই পরিকল্পনা অত্যধিক ব্যয়বহুল। শুধু পুলেট উৎপাদনের জন্য এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়।

সিজনাল রিয়ারিং পরিকল্পনা

সম্পাদনা

পুলেট উৎপাদনের জন্য আলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৮ সপ্তাহ হতে ১৮ সপ্তাহের পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক ৮ ঘণ্টা আলোক সময়ের প্রয়োজন হয়। পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ছাড়া পুলেটের জন্য ৮ ঘণ্টা আলোক সময় প্রদান সম্ভব হয় না। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে দিনের দৈর্ঘ্য ৯ হতে ১০ ঘণ্টা হয় বাচ্চার বাড়ন্ত বয়স কাল ডিসেম্বর মাস হলে তাকে সিজনাল রিয়ারিং বলে। সাধারণত আগস্ট হতে অক্টোবর মাসে উৎপাদিত বাচ্চার বাড়ন্ত বয়স কম-বেশি ডিসেম্বর মাস হয়।

এই পদ্ধতিতে পালন করলে উৎপাদিত পুলেট অত্যন্ত উন্নতমানের হয়। মুরগি বেশি ডিম পাড়ে এবং ডিম পাড়ার সময়কাল বেশি হয়। এছাড়াও পালন খরচ কম। এ পদ্ধতিতে কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন হয় না।

পুলেট নিবাৰ্চন

সম্পাদনা

এমন পুলেট নির্বাচন করতে হবে দেহ সুগঠিত হবে। দেহ পালকে পরিপূর্ণ থাকতে হবে। পুলেটকে চঞ্চল ও ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন মাইকোপ্লাজমা ও সালমোনিলা রোগমুক্ত হয়। পরস্পর সমতা ৬০ ভাগের বেশি হতে হবে। এছাড়াও পুলেটের জাত ও বয়স অনুসারে নির্ধারিত ওজনের হতে হবে।

পুলেট নির্বাচনের বয়স

সম্পাদনা

খাঁচায় পালন করতে হলে ১৫ সপ্তাহ বয়সে লেয়ার খাঁচায় স্থানান্তর করতে হয়। এই বয়স পুলেটের খাদ্য পরিবর্তন সময়। লিটারে পালন করার জন্য ১৫-১৮ সপ্তাহ বয়সে লেয়ার ঘরে স্থানান্তর করা হয়। লিটারে পালিত বাচ্চা লিটার, খাঁচা অথবা মাঁচার উপর এবং খাঁচায় পালিত বাচ্চা শুধু মাত্র খাঁচায় পালন করার জন্য উপযুক্ত। ১০ সপ্তাহ থেকে ২০ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত পুলেট পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।

পুলেট পালনের নিয়ম

সম্পাদনা

খামারে এক ব্যাচ মুরগির ডিম উৎপাদন শেষ হওয়ার ২ সপ্তাহ পরে ঘরে নতুন ব্যাচ পুলেট উঠাতে হয়। লেয়ার মুরগি পরিবর্তন ও নতুন পুলেটে ডিম উৎপাদন শুরু হওয়া পর্যন্ত ডিম উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। লেয়ার মুরগি বাতিল ও নতুন পুলেট প্রদানের পূর্বে ঘর পরিষ্কার পরিছন্ন, জীবাণুমুক্ত করার জন্য ২ সপ্তাহ সময় দেয়া প্রয়োজন। খামারে ডিম উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য একাধিক লেয়ার শেড থাকে এবং প্রতি শেডে বিভিন্ন বয়সের লেয়ার পালন করার পুলেট উৎপাদন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় মুরগির আচরণ পরীক্ষা করতে হয়। এসময় ঘরে মৃত ও দুর্বল মুরগি থাকলে অপসারণ, রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মুরগির ঘরে কখনও পরিশুদ্ধ না হয়ে প্রবেশ করতে নেই।