হাঁস-মুরগি পালন/হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন

হাঁস-মুরগির বাচ্চা সঠিকভাবে উৎপাদন করা হাঁস-মুরগি পালনের অন্যতম ধাপ। সুস্থ বাচ্চা উৎপাদন করতে পারলে হাঁস-মুরগি বড় হয়ে ভালো ডিম ও মাংস দেয়। অন্যথায় হাঁস-মুরগি নানা অসুখে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে।

বাচ্চা উৎপাদন করার জন্য তুষ পদ্ধতি থেকে শুরু করে হ্যাচারে বাচ্চা উৎপাদন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাচ্চার সংখ্যা, জাত ইত্যাদি মাথায় রেখে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে যেন সর্বোচ্চ লাভ করা সম্ভব হয়।

তুষ পদ্ধতিতে ডিম ফুটানো

সম্পাদনা

গ্রামীণ পরিবেশে অল্প খরচে অধিক কার্যকরভাবে ডিম ফুটানোর জন্য তুষ পদ্ধতি একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। সর্ব প্রথম চিন দেশে এই পদ্ধতির প্রচলন হয়। বর্তমানে ভারত, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বেও অনেক দেশে এই পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। দুঃস্থ ও বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য এই পদ্ধতির প্রচলন করা যায়, একজন মহিলাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা যায়। ফুটানো ডিম নিজে উৎপাদন করে কিংবা কন্ট্রাক্ট উৎপাদনকারীর কাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করা যেতে পারে। সংগ্রহকৃত ডিমগুলি বাছাই করে ভালো গুণগতমানের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হয়। খুব সহজে এবং কম খরচে এই ডিম ফুটানোর যন্ত্র তৈরি করা যায়। এই যন্ত্রের ২ টি অংশ থাকে- ১) ডিম বসানোর অংশ বা সেটার এবং ২) বাচ্চা ফুটানোর অংশ বা হ্যাচার বেড।

  1. ডিম বসানোর অংশ বা সেটার: কাঠের বাতার সাথে হার্ডবোর্ড অথবা বাঁশের চাটাই দ্বারা ২ ফুট x ২ ফুট এবং ৩ ফুট খাড়া চার কোণা বাক্স তৈরি করতে হবে। বাক্সের উপর দিক খোলা থাকবে বাঁশের চাটাই দিয়ে ১৪ ইঞ্চি চওড়া (ব্যাস) ও ৩০ ইঞ্চি খাড়া গোল ডোল তৈরি করতে হবে। ডোলের উপড় ও নিচে খোলা থাকবে। বাক্সের ভেতর তলাতে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ তুষ বিছাতে হবে। বাক্সের ভিতরে তুষের উপর ডোল বসাতে হবে। ডোল ও বাক্সের মাঝে খালি জায়গা তুষ দিয়ে ভরতে হবে। ডোলের চারদিকে ও তলাতে ৬ ইঞ্চি তুষ থাকবে। বাক্সের মধ্যে দুই বা তার চেয়ে বেশি ডোল বসানোর জন্য বাক্সের আকার বড় করতে হবে।
    1. ২ ফুট প্রশস্ত, ৪ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট খাড়া বাক্স ২ টি ডোলা বসানো যাবে।
    2. ৪ ফুট প্রশস্ত, ৪ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট খাড়া বাক্সে ৪টি ডোল বসানো যাবে।
    3. ৪ ফুট প্রশস্ত,৬ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট খাড়া বাক্স ৬ টি ডোল বসানো যাবে।
    4. প্রতিটি ডোলের মধ্যে ৪০০-৫০০টি ডিম বসানো যাবে।
    5. ডোলের আকার বড় করলে সেই অনুপাতে বাক্সের আকার বড় করতে হবে।
  2. বাচ্চা ফুটানোর অংশ বা হ্যাচার বেড: ডিম বসানোর অংশ হতে ১৮ দিন পর ডিম বের করে হ্যাচার বেডের উপর বসাতে হয়। এখানে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। একহাজার ডিম বসানোর জন্য ৪২ ইঞ্চি লম্বা ও ২৪ ইঞ্চি চওড়া বিছানা প্রয়োজন হয়। হার্ড বোর্ডের চারদিকে কাঠের বাতা দিয়ে এই বিছানা তৈরি করা যায়। বাচ্চা পড়ে যাওয়া ঠেকানোর জন্যে বিছানার বারদিকে কাঠের তক্তা দিয়ে ৬ ইঞ্চি বেড়া তৈরি করতে হয়। বিছানার উপরে ২/৩ ইঞ্চি পুরু করে তুষ বিছাতে হয়। কাঠের বা বাঁশের খুঁটির সাহায্যে এই বিছানা বহুতলা করা যায়।

ডিম ফুটানোর ঘর

সম্পাদনা
  • কম খরচে বাঁশের চাটাই দিয়ে বেড়া ও টিনের চালা দিয়ে ঘর তৈরি করতে হয়। আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরে ছোট জানালা থাকবে।
  • ঘরের চাল খড়, টিন অথবা বাঁশের তরজা ও পলিথিন দিয়ে করা যায়।
  • ঘরের মেঝেতে তুষ বিছিয়ে দিলে ঘর গরম থাকবে ও মেঝের উপরে অতিরিক্ত ভেজা ভাব দূর হবে।
  • ৮ ফুট চওড়া ও ১২ ফুট লম্বা ঘরে ৪ ফুট x ৬ ফুট বাক্স ও ৪ ২ ইঞ্চি লম্বা x ২৪ ইঞ্চি চওড়া বিছানা রাখা যাবে।

ডিম বসানো ও গরম করার নিয়ম

সম্পাদনা
  • লাইলনের তৈরি রঙিন মশারীর কাপড় দিয়ে ১০০-১২৫টি ডিমের এক একটি পোটলা তৈরি করতে হবে। মুরগির ডিম বেশি ভংগুর এজন্য ৪০-৫০ টি ডিম দিয়ে ছোট পোটলা করা ভালো।
  • পোটলার মধ্যে ডিমগুলো ঢিলা করে বাঁধতে হবে।
  • ডিমের পোটলাগুলোর রোদে ৩/৪ ঘন্টা গরম করতে হবে।
  • ডোলের আকারে গোল ২/৩ ইঞ্চি মোটা তুষ দিয়ে চটের পোঠলা তৈরি করতে হবে।
  • প্রতিডোলে ৪০০-৫০০ ডিম বসানো যায়।
  • পোটলাগুলো রোদে ১০৭.৮ ডিগ্রি-১৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় গরম করতে হবে।
    • শীতের দিনে সকালে ও বিকালে ২ বার এবং গরমের দিনে ১ বার তুষের পোটলা গরম করতে হয়।
    • রোদ না থাকলে চুলার উপরে লোহার কড়াই বসিয়ে তার মধ্যে তুষের পোটলা গরম করতে হয়।
  • হিটার বা কেরোসিনের চুলার উপরে বাঁশের ডোল দিয়েও উপরিভাগে বাঁশের চালনির উপর ডিম ও পোটলা গরম করা যায়। একই ডোলে বিভিন্ন সপ্তাহে বসানো ডিমের পোটলা থাকলে ডিমের ভেতরের তাপে পরে বসানো ডিম গরম হয়।

ডোলে ডিম বসানোর পদ্ধতি

সম্পাদনা
  • ডোলের ভেতর প্রথমে গরম তুষের পোটলা তার উপড় ডিমের পোটলা তারপর পুনরায় তুষের পোটলা এমনিভাবে ডিমের পোটলা ও তুষের পোটলা বসাতে হবে।
  • প্রতিদিন পোটলা বের করে ২ বা ৩ বার ডিমের পার্শ্ব পরিবর্তন করতে হবে।
  • ডিমের তাপ পরীক্ষার জন্য চোখের উপরে ধরলে তাপ অনুভব করা যাবে।
  • ৭ দিন ১৪ দিন এবং ১৮ দিনে ডিমের মধ্যে ভ্রূণের অবস্থা আলোর সাহায্যে পরীক্ষা করতে হবে। অনুর্বর ডিম ও মৃত ভ্রূণযুক্ত ডিম বাছাই করে ফেলতে হবে।

বাচ্চা ফুটানোর বিছানায় ডিম বসানো

সম্পাদনা
  • ১৮ দিনে ডোলের মধ্য থেকে ডিম বের করে ডিম ফুটানোর বিছানায় ডিম বসাতে হবে।
  • ঘরের তাপমাত্রা থাকবে ৮৫ ডিগ্রি ফা. এবং হ্যাচারে বা বিছানায় ৯০-৯৫ ডিগ্রি ফা.। ঘরে ১০০ ওয়ার্টের ৩-৪ টা বাতি জ্বালানো হলে এই তাপ তৈরি হবে।
  • তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি ফা. এর বেশি হলে জানালা দরজা খুলে পাখার বাতাস দিতে হবে।
  • আর্দ্রতা কমে গেলে সামান্য গরম পানি ডিমের উপর স্প্রে করতে হবে।
  • ২১ দিনে মুরগির ডিম এবং ২৮ দিনে হাঁসের ডিম ফুটে বিছানার মধ্যে বাচ্চা বের হবে।
  • বাচ্চা ফুটার ৩ দিন পূর্বে বিছানার উপরে রাখা ডিম আর পুরানো যাবে না।

=== ১ম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দৈনন্দিন কার্যাদি === দৈনন্দিন কার্যক্রম মধ্যে ডিমগুলি প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা পর পর নাড়াচাড়া করা। ডিমের তাপমাত্রা যেন ১০০ ডিগ্রি ফা. বজায় থাকে। সে লক্ষ্যে চুলায় গরম করা তুষ, বা ছাই দ্বারা ডিমগুলিকে গরম করতে হবে। উপরের পুটলি নিচে এবং নিচের পুঁটলি উপরে পালটে দিতে। আর্দ্রতা কম থাকলে অর্থাৎ ৭০% এর নিচে হলে দিনে যতবার ডিম ওলটপালট করা হবে ততবার কুসুম গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে ডিম মুছে দিতে হবে। এভাবে হ্যাচিং বিছানায় নেয়া পর্যন্ত করতে হবে। হ্যাচিং বিছানায় নেয়ার পর ডিম নাড়া চাড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হ্যাচিং বিছানায় তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফা. এবং আর্দ্রতা ৯০ % রাখতে হবে। আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য ডিমের উপর কুসুম গরম পানি প্রয়োজন বোধে স্প্রে করে দিতে হবে।

লাভজনকভাবে দেশি মুরগি পালন কৌশল

সম্পাদনা

আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশি মুরগি প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে। আমরা সবাই বলে থাকি দেশি মুরগির উৎপাদন কম। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশি মুরগির উৎপাদন দ্বিগুণের ও বেশি পাওয়া সম্ভব। দেশি মুরগি থেকে লাভ জনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে দেশি মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রিয় করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরি করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। এক সংগে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শুরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশি নেয়া ঠিক না। তাতে অনেক অসুবিধাই হয়। শুরুতে মুরগি গুলোকে ক্রিমি নাশক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায়। তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশি হয়। মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না। ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি ওমে আসবে। তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়। এক সঙ্গে একটি মুরগির নিচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে।

খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ, খড়, বিচলী, তাল, নারকেল সুপারি পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরি করা সম্ভব তা করা যায়। ঘর তৈরির সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে। বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ির সবচেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে।

মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশি দিন টিকবে। ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ আরেকটি প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠাণ্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচে হয়ে হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীতকালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হবে। ওমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে। তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবে না এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।

  • ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয় নি এমন ডিমগুলো চেনা যাবে এবং বের করে অনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিমগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়।
  • প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাবে তাপ লাগার জন্য দিনে কম পক্ষে ৫-৬ বার ওলট পালট করে দিতে হবে।
  • বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম ওমে বসানোর ১৮-২০ দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙুল ভিজিয়ে পানি স্প্রে করে দিতে হবে।
  • ফোঁটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে ওম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা শুকিয়ে ঝরঝরে হবে।

বাচ্চা ফোটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা

সম্পাদনা

গরম কালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীতকালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে ওম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্রুডডিং) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও আলাদা করে দিতে হবে। বাচ্চা গুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে। উপরোক্ত বর্ণিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্রুডডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন থেকেই বাচ্চা পালনের মতো বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন দিতে হবে। মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কী বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায়। তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ কোনো খাবার বা পানি কিছুই খাবে না। আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোনো সমস্যা থাকে না। প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘণ্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি টিকা দিতে হবে। দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০-২৪ দিন সময় নেয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয়। বাচ্চা লালন পালন করে। বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয়। ডিম থেকে এভাবে (৯০-১১০ দিন) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি দেশি মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০-১৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০-৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায়। এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে।

ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না। ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশি সময় দিতে পারে। এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফোটার সংখ্যা বেশি হয়। দেখা গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায়। এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।