উইকিশৈশব:এটা কীভাবে কাজ করে/৬টি সরল যন্ত্র

১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত একটি এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্বকোষ থেকে প্রাপ্ত কিছু সরল যন্ত্রের চিত্র

একটি সরল যন্ত্র এমন এক প্রকার যন্ত্র যা প্রযুক্ত বলের অভিমুখ বা পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারে। এগুলি আরও জটিল মেশিন বা যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত গঠনগত উপাদান (বিল্ডিং ব্লক)। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় চাকা, লিভার, স্ক্রু এবং কপিকল এই সরল যন্ত্রগুলির ব্যবহার করে সাইকেল তৈরি হয়।

ছয়টি সরল যন্ত্র নিম্নরূপ:

যান্ত্রিক সুবিধাসম্পাদনা

সরল যন্ত্র হলো সবচেয়ে মৌলিক প্রক্রিয়া যার যান্ত্রিক সুবিধা (লিভারেজও বলা হয়ে থাক) ব্যবহার করে প্রযুক্ত বলকে গুণিতকের হারে বৃদ্ধি করা যায়। এটা কিভাবে সম্ভব? এটা আসলে "কাজ"-এর ধারণার কারণে সম্ভব হয়। আমরা সবাই জানি আমাদের যদি এক মাইল হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়, তার থেকে বিদ্যালয় যদি দুই মাইল দূরে হয়, এখানে যেতে অধিক পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপে কত পরিমাণ উদ্যম লাগে? নিজের শরীরকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যত পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হয় ততো পরিমাণ উদ্যম লাগে। বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়ারদের ভাষায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব যেতে যত পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হয় সেটাই তার "কাজের" পরিমাণ।

একটি সাধারণ মেশিন কোন ভারী বস্তুর উপর কাজ করার জন্য শক্তি ব্যবহার করে। কোন ঘর্ষণ না থাকলে, ওই ভারী বস্তুর উপর করা কাজের পরিমাণ প্রয়োগ করা শক্তি দ্বারা সম্পন্ন কাজের সমান। সাধারণ মেশিনগুলি মূলত উৎপাদন শক্তির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এর একটি ভারসাম্য রয়েছে, তার বেশি বল প্রয়োগ করতে থাকলে কম দূরত্ব অতিক্রান্ত হয়। উৎপাদন বল বা আউটপুট ফোর্স এবং প্রযুক্ত বল বা ইনপুট ফোর্সের অনুপাত কে বলা হয় মেকানিকাল অ্যাডভান্টেজ বা যান্ত্রিক সুবিধা।

ইতিহাসসম্পাদনা

গ্রিক দার্শনিক আর্কিমিডিস প্রথম সরল যন্ত্র তৈরি চিন্তা করেন। তিনি লিভার, কপিকল এবং স্ক্রু বিষয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি লিভারের যান্ত্রিক সুবিধা নীতি আবিষ্কার করেন। রেনেসাঁর (নবজাগরণ) সময়ে ধ্রুপদী পাঁচটি সরল যন্ত্র (কীল বাদে) একসাথে অধ্যয়ন করা শুরু হয়। সরল যন্ত্রের সম্পূর্ণ তত্ত্বটি ১৬০০ সালে ইতালীয় বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলেই আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন যে এই সরল যন্ত্র শক্তি উৎপন্ন করে না বরং রূপান্তর ঘটায়।