উইকিশৈশব:এশিয়া/পাকিস্তান

Pakistan on the globe (Asia centered).svg
[[চিত্র:Flag of Pakistan

.svg

|100px]] পাকিস্তান
Pakistan Emblem
Shahid Khakan Abbasi, Prime Minister of Pakistan

পাকিস্তান এশিয়ার একটি দেশ। এটি বিশ্বের ৩৬ তম বৃহত্তম দেশ, যার আয়তন ৩০7,৩৭৪ বর্গমাইল। এত বড় একটি দেশ হওয়ায় এর জনসংখ্যাও অনেক। পাকিস্তানে ১৮ কোটিরও বেশি লোক বাস করে।

পাকিস্তানের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন মামনুন হুসেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হলেন শহীদ খাকান আব্বাসি, এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। পূর্ব পাকিস্তান, যা এখন বাংলাদেশ নামে একটি স্বতন্ত্র দেশ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়।

গঠনসম্পাদনা

 
মুহম্মদ আলি জিন্নাহ

১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগস্ট পাকিস্তান ভারত থেকে পৃথক হয়ে একটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়। এর পিছনে প্রধান ব্যক্তি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তিনি প্রথমে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সাম্যের সমর্থক ছিলেন, তবে দ্রুতই তিনি মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক দেশ দাবি করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানের জনক হিসাবে বিবেচিত হন।

এই পৃথকীকরণ দুই দেশের মাঝে ব্যপক অস্থিরতা এবং দ্বন্দের সৃষ্টি করে।

প্রসঙ্গক্রমে একজন হিন্দু মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করে। কারণ সে হিন্দু-মুসলিম সাম্য নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর দৃষ্টিকোণ পছন্দ করেন নি।

পাকিস্তান কোথায় অবস্থিত?সম্পাদনা

 
Durand Line

Pakistan lies along the Arabian Sea and the Gulf of Oman in the south, bordered by India to the east, Afghanistan to the west, Iran to the southwest, and China in the far northeast.

The Durand Line, which is 1,640 miles long, forms the border between Pakistan and Afghanistan. It was established in an agreement with Mortimer Durand, a British diplomat and civil servant of British India, and Abdur Rahman Khan, the Afghan Amir, in 1893. The reason for this is to improve on trade and relationships. Even though the British controlled Afghanistan's foreign affairs and diplomatic relationships, the British saw Afghanistan as a sincere independent state.

পাকিস্তানে কত লোক বাস করে?সম্পাদনা

১৮ কোটিরও বেশি লোক পাকিস্তানে বাস করে এবং ফলস্বরূপ, জনসংখ্যার ভিত্তিতে দেশগুলির তালিকায় পাকিস্তান ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২০১৩ সালে ৩,৪২৮,৮৮৯ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানে পুরুষের সংখ্যা বেশি (পুরুষদের সংখ্যা ৫১.২৪%) - পুরুষদের জনসংখ্যা ৯৩,৫৭২,৫৬১। পাকিস্তানে মহিলাদের (পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৮.৫০%) - ৮৮,৫৭০,০৩৩ জন মহিলা।

পাকিস্তানের প্রচলিত ভাষাসমূহ কী?সম্পাদনা

 
উর্দু লেখার নমুনা

পাকিস্তানের সরকারী ভাষা হ'ল উর্দু এবং ইংরেজি। এর পাশাপাশি পাঞ্জাবি, পশতু, সিন্ধি, বালোচি, কাশ্মীরি, ব্রাহুই, শিনা, বালতি, খোয়ার, ধাটকি, মারোয়ারি, ওয়াখি এবং বুরুশস্কির মতো আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে।

উর্দুর লিপি ডান থেকে বামে লেখা ও পড়া হয়(আরবীর মতো)। তবে একজন হিন্দিভাষী ব্যক্তি উচ্চারিত ভাষায় মিল থাকার কারণে সহজেই উর্দু-ভাষী ব্যক্তির সাথে কথোপকথন করতে পারেন।

পাকিস্তানের প্রচলিত ধর্ম কী?সম্পাদনা

ইসলাম হল পাকিস্তানের রাষ্ট্র ধর্ম এবং প্রায় ৯৮% পাকিস্তানি মুসলমান। ইসলামের দুটি প্রধান দল রয়েছে, সুন্নি ও শিয়া। ২০% মুসলমান শিয়া অনুসারী, এবং বাকীরা সুন্নি মুসলমান (সুতরাং ৭০% শতাংশ সুন্নি)। বাকি ৩% খ্রিস্টান, হিন্দু এবং শিখ ধর্মের অনুসারী। বেশ কয়েকটি মসজিদ রয়েছে (মসজিদ মুসলমানদের উপাসনার স্থান)। পাকিস্তানের কয়েকটি বিখ্যাত মসজিদ হ'ল ফয়সাল মসজিদ, যা ইসলামাবাদে অবস্থিত, এবং পাকিস্তানের করাচির মসজিদ-ই-তুবা।

পাকিস্তান ধর্মনিরপেক্ষ নয় - পাকিস্তানকে 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান' হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। যদিও আইনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্বীকৃয়ি দেয়া হয়েছে, তবে ধর্মীয় কারণে নৃশংস হত্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

পাকিস্তানে প্রচলিত ক্রীড়া কী কী?সম্পাদনা

 
ক্রিকেট

ফিল্ড হকি পাকিস্তানের জাতীয় খেলা। ১৯৬০, ১৯৬৮ এবং ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসে দেশটি তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছে। এছাড়াও ১৯৭১, ১৯৭৮, ১৯৮২ এবং ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত হকি বিশ্বকাপ চারবার জেতার রেকর্ডও করেছে পাকিস্তান।

ক্রিকেট এখন পর্যন্ত সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা (সাধারণত, পাকিস্তানের লোকেরা অল্প বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করে)। পাকিস্তানের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিকেট দল রয়েছে যারা ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলে। পাকিস্তান ১৯৯২ সালে (অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে) ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছে। ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান চূড়ান্ত খেলায় ইংল্যান্ডকে ২২ রানে পরাজিত করে।

ফিল্ড হকি, বাস্কেটবল এবং বেসবলের মতো পাকিস্তান আরও অনেক খেলা প্রচলিত। ক্রিকেট বিশ্বকাপের মতো পাকিস্তান হকি বিশ্বকাপ জিতেছে।

২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে সফর ব্যাতীত, ২০০৯ সাল থেকে কোনও দেশ পাকিস্তানে সফর করেনি। ১২জন বন্দুকধারী দল বহনকারী চলন্ত বাসটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোয় শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার কারণে এমনটি ঘটে। তারপরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানকে তাদের 'হোম' ম্যাচ খেলতে হয়েছিল।

পাকিস্তানের দর্শনীয় স্থান কী কী?সম্পাদনা

 
শাহ জাহান মসজিদ
  • কালাশ উপত্যকা পাকিস্তানের ছিত্রাল জেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান। এটির ইতিহাস এবং উপস্থিতি অনেক পর্যটককেই আকর্ষণ করে। কালাশ একটি প্রাচীন গ্রীক সভ্যতা। কালাশ উপত্যকার লোকদের "কেলাশ" নামে ডাকা হয়। এই উপত্যকার ধর্ম এবং সংস্কৃতি পুরানো সংস্কৃতিগুলির অন্তর্গত। এখানকার লোকেরা ছোট ছোট গ্রামে বাস করে, যেগুলো তারা পাহাড়ের গায়ে গড়ে তুলে। এখানকার লোকেরা কাঠের গুড়ি দিয়ে তাদের গ্রামগুলি তৈরি করে। এখানকার লোকেরা বেশ কয়েকটি উৎসব উদযাপন করে, যেমন উচাল উৎসব, ফু উৎসব এবং চোমোস উৎসব।
  • শাহ জাহান মসজিদ থট্টায় অবস্থিত একটি মসজিদ। কেন এখানে যাবেন? এই মসজিদটি আকর্ষণীয় স্থাপত্যের জন্য পরিচিত, এটি ছিল মুঘলদের স্থাপত্যশৈলী। মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের নির্দেশে মসজিদটি ১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটি তুরস্কের শিল্পকর্ম দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। এর মাঝে রয়েছে সুন্দর মোজাইক টাইলস এবং মেঝের কাজ। এই মসজিদটি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর জন্য এবং তুর্কি মোজাইক টাইলস ও মেঝের কাজের কারণে অবশ্যই দেখার মতো।
  • মহেঞ্জোদারো হল বিশ্বের সর্বপ্রাচীন সভ্যতা। এটি ২৬০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৯২২ সালে আর ডি ব্যানার্জি এটি আবিষ্কার করেছিলেন। লারকানার দক্ষিণে অবস্থিত মহেঞ্জোদারো স্থাপত্য এবং ভবনের নকশার জন্য জনপ্রিয় একটি স্থান। এখানে বেশ কয়েকটি বড় ঘর এবং রাস্তা রয়েছে। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত সভ্যতা এখানকার প্রাচীন মানুষরা কীভাবে জীবনযাপন করত তা প্রদর্শন করে। দুঃখের বিষয়, সরকারের অসতর্কতা, সুরক্ষা প্রেক্ষিত এবং পাকিস্তানে পর্যটন কমে যাওয়ার কারণে (তালেবান ও অন্যান্য বিপদের কারণে) মহেঞ্জোদারো এখন বিপর্যস্ত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে এটির কারণে আগামী ২০ বছরে মহেঞ্জোদারো ভেঙে পরবে। পাকিস্তানী প্রত্নতাত্বিক ডঃ আসমা ইব্রাহিম বলেছেন যে "দক্ষতা নিয়ে কোনও বিভাগ নেই, গত দুই বছর ধরে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি। যেভাবে পরিস্থিতি চলছে, এটি সম্ভবত আর মাত্র ২০ বছর টিকে থাকবে"।
  • লাহোর দুর্গ, যা শাহী কিলা নামেও পরিচিত, লাহোরে অবস্থিত একটি দুর্গ (তাই এই নাম)। লাহোর দুর্গটি লাহোরের অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ। লাহোর দুর্গটি ভারতের আগ্রা দুর্গের স্থাপত্যশৈলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও দুর্গটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে, তবে মুঘলদের সাদৃশ্য এখনও বিদ্যমান। লাহোর দুর্গে মতি মসজিদ নামে পরিচিত একটি মসজিদ রয়েছে। এটি আলমগিরি গেটের নিকটে অবস্থিত। লাহোর দুর্গটি আসলে লাহোরের উত্তরে অবস্থিত।
  • শালিমার উদ্যান (বা শালামার উদ্যান) লাহোর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত একটি উদ্যান। এই অঞ্চলটি লাহোরের অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ। শালিমার উদ্যান ১৬ শতক থেকে ১৯ শতক সময় পর্যন্ত মুঘলরা তাদের রয়্যাল প্লেজার হিসাবে ব্যবহার করেছিল। এখানকার উদ্যানটিগুলো কাশ্মীরেরগুলো দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। শালিমার বাগান সেচ দেওয়ার জন্য একটি খাল ব্যবহৃত হয়, এটি শাহ নাহার খাল হিসেবে পরিচিত। শালিমার উদ্যানে পাঁচটি পানির ক্যাসকেড রয়েছে। শালিমার উদ্যানগুলি মুঘল সম্রাট শাহ জাহান নির্মান করেন। ১৬৪১ খ্রিস্টাব্দে উদ্যানটির নির্মান শুরু হয় এবং এক বছরে উদ্যানগুলি সমাপ্ত হয়। ১৯৮১ সালে শালিমার উদ্যান ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে মনোনীত করা হয়।
  উইকিশৈশব:এশিয়া সম্পাদনা